মতামত ও ফিচার

ডিপ্লোমা থেকে BSc Engineering, এরপর PSC-এর মাধ্যমে শিক্ষক—তবুও কেন প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে একজন শিক্ষককে?

লিখেছেন Senior Reporters প্রকাশ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ PM
ডিপ্লোমা থেকে BSc Engineering, এরপর PSC-এর মাধ্যমে শিক্ষক—তবুও কেন প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে একজন শিক্ষককে?
Voice Of Engineers | ইঞ্জিনিয়ারদের কথা বলে ডিপ্লোমা থেকে BSc Engineering, এরপর PSC-এর মাধ্যমে শিক্ষক—তবুও কেন প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে একজন শিক্ষককে? নিজস্ব প্রতিবেদক | Voice Of Engineers একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে শিক্ষাজীবন শুরু করে পরবর্তীতে BSc Engineering সম্পন্ন করে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC)-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এমন একজন শিক্ষককে তাঁর পূর্ববর্তী শিক্ষাগত ব্যাকগ্রাউন্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তাঁর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং তাঁকে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ/পলিটেকনিক/কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় অনুপযুক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।থচ তিনি একজন যোগ্য অভিজ্ঞতাপূর্ণ শিক্ষিকা, তিনি তার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে এসেছেন বিপিএসসির বোর্ডের কাছে। তাহলে কি এখন কিছু উশৃঙ্খল বখাটে শিক্ষার্থীদের কাছে আবারো উনার পরিক্ষা দিয়ে প্রমান করতে হবে যে, তিনি একজন যোগ্য শিক্ষিকা? প্রশ্ন থাকছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিকটে। এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— একজন ব্যক্তি যদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পর BSc Engineering সম্পন্ন করেন, নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করেন এবং PSC-এর প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সেই প্রশ্নের মূল জায়গা কি PSC-এর নিয়োগব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধিমালা নয়? কারও ব্যক্তিগত শিক্ষাগত পথকে হেয় করার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নিয়োগের নিয়ম, যোগ্যতার মানদণ্ড এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েই আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েও প্রশ্ন একই সঙ্গে কোনো কোনো মহল থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি UGC-এর অনুমোদন ও নির্ধারিত একাডেমিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়, তাহলে সেখান থেকে ডিগ্রি অর্জনকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে শুধু প্রতিষ্ঠানের ধরন দেখে অযোগ্য বা মেধাহীন হিসেবে বিবেচনা করা কতটা যুক্তিসঙ্গত—সেটিও আলোচনার বিষয়। মেধা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ওপর নির্ভর করে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থী মেধাবী—এমনটি যেমন বলা যায় না, তেমনি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধাহীন—এমন সাধারণীকরণও গ্রহণযোগ্য নয়। একজন প্রকৌশলীর যোগ্যতা মূল্যায়নে তাঁর শিক্ষাগত অর্জন, দক্ষতা, ফলাফল এবং নির্ধারিত নিয়োগ পরীক্ষায় পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে পলিটেকনিকের ভবিষ্যৎ কোন পথে? একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পরবর্তীতে BSc Engineering সম্পন্ন করে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না—এটি যদি প্রশ্ন হয়, তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সরকারি বিধিমালা ও নিয়োগের যোগ্যতার মানদণ্ডের ভিত্তিতে। কিন্তু একই যুক্তিতে যদি ভবিষ্যতে বলা হয়—“পলিটেকনিক থেকে BSc Engineer-দের সরিয়ে দিতে হবে” অথবা “Craft Instructor-দেরও এখানে প্রয়োজন নেই” তাহলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি পদের যোগ্যতা, দায়িত্ব ও নিয়োগ কাঠামো নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠবে। এভাবে একের পর এক শ্রেণিকে বাদ দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু কোনো ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়—পুরো কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে। Voice Of Engineers-এর প্রশ্ন যোগ্যতা কি শিক্ষাজীবনের একটি পর্যায়ে আটকে থাকবে, নাকি একজন ব্যক্তি পরবর্তীতে অর্জন করা উচ্চতর যোগ্যতা ও রাষ্ট্রীয় নিয়োগের মাধ্যমে তাঁর বর্তমান অবস্থান নির্ধারণ করবেন? PSC-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত একজন শিক্ষককে যদি তাঁর নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তরও কি যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত নয়? আর যদি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ, উসকানিমূলক বক্তব্য বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তাহলে সেটিও আবেগ দিয়ে নয়—প্রমাণ, তদন্ত এবং প্রচলিত আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কারিগরি শিক্ষা কোনো গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রাষ্ট্রের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ। এখানে Diploma Engineer, BSc Engineer, Instructor, Craft Instructorসহ বিভিন্ন জনবলের ভূমিকা কী হবে—তা নির্ধারিত হওয়া উচিত সরকারি বিধি, পদসৃজন, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়—নিয়মের ভিত্তিতে বিচার চাই। বিভাজন নয়—সুষ্ঠু কাঠামো চাই। অপপ্রচার নয়—তথ্য ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা চাই। কারিগরি শিক্ষায় বিশৃঙ্খলা নয়—সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থা চাই। Voice Of Engineers — ইঞ্জিনিয়ারদের কথা বলে।

সম্পর্কিত খবর